ফিরে দেখা ইতিহাস
ঘাতক রাজাকার, আল-বাদর, মওদুদী জামাতী, দেওবন্দী খারিজী, ওহাবী সালাফীদের দিনলিপি
২ এপ্রিল, ১৯৭১ ঈসায়ী
ঘাতক রাজাকার, আল-বাদর, মওদুদী জামাতী, দেওবন্দী খারিজী, ওহাবী সালাফীদের দিনলিপি
২ এপ্রিল, ১৯৭১ ঈসায়ী
১৯৭০-এর নির্বাচনে আওয়ামী লীগ ব্যাপক সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করা সত্ত্বেও ক্ষমতা হস্তান্তর না করে পাকিস্তানি শাসকচক্র এদেশের নিরস্ত্র মানুষের উপর লেলিয়ে দেয় সেনা বাহিনীকে। কিন্থ এর দায় তারা সবসময় শেখ মুজিবের উপর চাপানোর চেষ্টা করেছে। রেডিও পাকিস্তান থেকে ২ এপ্রিল সামরিক হস্তক্ষেপের ব্যাখ্যা প্রচার করা হয়। ব্যাখ্যায় বলা হয়, সামরিক বাহিনী হস্তক্ষেপ করতে বাধ্য হয়েছে। না হলে শেখ মুজিব সামরিক হামলা চালাতো। এ ব্যাখ্যাটি রেডিও পাকিস্তান প্রচার করে কলম্বিয়া ব্রডকাস্টিং সিস্টেমের উদ্ধৃতি দিয়ে।
মার্কিন সরকার গণহত্যার বিরুদ্ধে কোনা ভূমিকা নেয়নি, এমনকি নিন্দা পর্যন্ত জানায়নি। বরং পরোক্ষভাবে মদদ দিয়েছে পাকিস্তানি শাসকদের। গণহত্যা বন্ধে ব্যবস্থা না নিলেও তারা পরিসি'তি সমপর্কে খোঁজ নিয়েছে সবসময়। ঢাকার মার্কিন কনসাল জেনারেল দেখা করে গভর্নর টিক্কা খানের সঙ্গে। তার এ সাক্ষাতে স্বাধীনতাকামীদের পক্ষে ন্যূনতম আশার বাণীও ছিলো না।
পাক সেনাদের ভয়ে এমনিতেই কেউ বাইরে বেরুতো না। তার উপর ছিলো কারফিউ। সন্ধ্যা ৬টা থেকে সকাল ৬টা পর্যন্ত লোক চলাচল ছিলো নিষিদ্ধ। রেডিও পাকিস্তান বারবার সতর্ক করে দেয় ঢাকাবাসীকে বাইরে না বেরুতে। সামরিক কর্তৃপক্ষ এবং তাদের এ দেশীয় দালালরা সবসময় মুক্তিযোদ্ধাদের ভারতীয় চর ও অনুপ্রবেশকারী বলে অপপ্রচারণা চালিয়েছে। মুক্তিযুদ্ধকে প্রচার করেছে ভারতের ষড়যন্ত্র বলে। সব কিছুর জন্যেই তারা দায়ী করেছে ভারতকে। দেশের পরিসি'তির জন্যে ভারতের নিন্দা এবং দুষ্কৃতিকারীদের বাধাদানের আহবান জানিয়ে বিবৃতি দেয় দেশের ৩৯ জন আইনজীবী। এসব আইনজীবী হচ্ছে ঢাকা হাইকোর্টের ফরিদ আহমদ, ফজলুল হক, মইনুল হক, এ ডব্লিউ চৌধুরী, শফিকুর রহমান, আহমেদুর রহমান খান, জুলমত আলী খান, মোদাব্বর হুসাইন, এ এম এম এ জলিল, নাজিরুদ্দিন, আব্দুল ওয়াদুদ মিয়া, ইউসুফ আলী খান, গিয়াসুদ্দিন ভূইয়া, একে রফিকুল হোসেন, নাসিরুদ্দিন চৌধুরী, নাসিম এ রহমান, মোহিতুর রহমান চৌধুরী, আকরাম হোসেন আমিন, আবু সালেক, আব্দুর রশীদ, সৈয়দ মোহাম্মদ আলী, মোজাম্মেল হক, মশিহুল ইসলাম, এম. এন. আলী, কোরবান আলী, নূরুল হক, আজিজুর রহমান, নূরুল হুদা খন্দকার, ফজলুল হক, এ. জে. ফজলুল হক চৌধুরী, আহমদ আলী মন্ডল, মোমতাজ উদ্দিন আহমদ, শামসুল ইসলাম, সিরাজুল ইসলাম, ফরমান উল্লাহ খান, আবু সাঈদ, এইচ কে আব্দুল হাই, এম এস ভূইয়া, মাহবুবুর রহমান। নিজেরাতো বটেই, জনগণের প্রতি এরা আহবান জানায় সেনা বাহিনীর পাশে থেকে মুক্তিযোদ্ধাদের খতম করার।
ভুট্টো এদিন সাংবাদিকদের কাছে দৃপ্ত কণ্ঠে ঘোষণা করেছিল, কোনো মতেই পাকিস্তান ভাঙতে দেয়া হবে না। ভারতের চক্রান্তকে যে কোনো মূল্যে নস্যাৎ করে দেয়া হবে। পাকিস্তান প্রেমিকদেরকে জিহাদের ডাক দেয় জমিয়তে ওলামায়ে ইসলাম (হাজরভী)। এ ধর্মব্যবসায়ী সংগঠনের সভায় ঘোষণা করা হয়, দেশের এ অবস্থায় চুপ করে থাকা যায় না। সভায় প্রস্তাব পাঠ করে সাধারণ সম্পাদক মুফতে মাহমুদ।
(তথ্যসূত্র: দৈনিক আজাদ, পাকিস্তান, ৩, ৪, ৫ এপ্রিল, ১৯৭১ ঈসায়ী।)
মার্কিন সরকার গণহত্যার বিরুদ্ধে কোনা ভূমিকা নেয়নি, এমনকি নিন্দা পর্যন্ত জানায়নি। বরং পরোক্ষভাবে মদদ দিয়েছে পাকিস্তানি শাসকদের। গণহত্যা বন্ধে ব্যবস্থা না নিলেও তারা পরিসি'তি সমপর্কে খোঁজ নিয়েছে সবসময়। ঢাকার মার্কিন কনসাল জেনারেল দেখা করে গভর্নর টিক্কা খানের সঙ্গে। তার এ সাক্ষাতে স্বাধীনতাকামীদের পক্ষে ন্যূনতম আশার বাণীও ছিলো না।
পাক সেনাদের ভয়ে এমনিতেই কেউ বাইরে বেরুতো না। তার উপর ছিলো কারফিউ। সন্ধ্যা ৬টা থেকে সকাল ৬টা পর্যন্ত লোক চলাচল ছিলো নিষিদ্ধ। রেডিও পাকিস্তান বারবার সতর্ক করে দেয় ঢাকাবাসীকে বাইরে না বেরুতে। সামরিক কর্তৃপক্ষ এবং তাদের এ দেশীয় দালালরা সবসময় মুক্তিযোদ্ধাদের ভারতীয় চর ও অনুপ্রবেশকারী বলে অপপ্রচারণা চালিয়েছে। মুক্তিযুদ্ধকে প্রচার করেছে ভারতের ষড়যন্ত্র বলে। সব কিছুর জন্যেই তারা দায়ী করেছে ভারতকে। দেশের পরিসি'তির জন্যে ভারতের নিন্দা এবং দুষ্কৃতিকারীদের বাধাদানের আহবান জানিয়ে বিবৃতি দেয় দেশের ৩৯ জন আইনজীবী। এসব আইনজীবী হচ্ছে ঢাকা হাইকোর্টের ফরিদ আহমদ, ফজলুল হক, মইনুল হক, এ ডব্লিউ চৌধুরী, শফিকুর রহমান, আহমেদুর রহমান খান, জুলমত আলী খান, মোদাব্বর হুসাইন, এ এম এম এ জলিল, নাজিরুদ্দিন, আব্দুল ওয়াদুদ মিয়া, ইউসুফ আলী খান, গিয়াসুদ্দিন ভূইয়া, একে রফিকুল হোসেন, নাসিরুদ্দিন চৌধুরী, নাসিম এ রহমান, মোহিতুর রহমান চৌধুরী, আকরাম হোসেন আমিন, আবু সালেক, আব্দুর রশীদ, সৈয়দ মোহাম্মদ আলী, মোজাম্মেল হক, মশিহুল ইসলাম, এম. এন. আলী, কোরবান আলী, নূরুল হক, আজিজুর রহমান, নূরুল হুদা খন্দকার, ফজলুল হক, এ. জে. ফজলুল হক চৌধুরী, আহমদ আলী মন্ডল, মোমতাজ উদ্দিন আহমদ, শামসুল ইসলাম, সিরাজুল ইসলাম, ফরমান উল্লাহ খান, আবু সাঈদ, এইচ কে আব্দুল হাই, এম এস ভূইয়া, মাহবুবুর রহমান। নিজেরাতো বটেই, জনগণের প্রতি এরা আহবান জানায় সেনা বাহিনীর পাশে থেকে মুক্তিযোদ্ধাদের খতম করার।
ভুট্টো এদিন সাংবাদিকদের কাছে দৃপ্ত কণ্ঠে ঘোষণা করেছিল, কোনো মতেই পাকিস্তান ভাঙতে দেয়া হবে না। ভারতের চক্রান্তকে যে কোনো মূল্যে নস্যাৎ করে দেয়া হবে। পাকিস্তান প্রেমিকদেরকে জিহাদের ডাক দেয় জমিয়তে ওলামায়ে ইসলাম (হাজরভী)। এ ধর্মব্যবসায়ী সংগঠনের সভায় ঘোষণা করা হয়, দেশের এ অবস্থায় চুপ করে থাকা যায় না। সভায় প্রস্তাব পাঠ করে সাধারণ সম্পাদক মুফতে মাহমুদ।
(তথ্যসূত্র: দৈনিক আজাদ, পাকিস্তান, ৩, ৪, ৫ এপ্রিল, ১৯৭১ ঈসায়ী।)