৭১-এর রাজাকার, আজকের মায়েতে মওদুদীর নেতা রাজাকার আজহারুলের হাক্বীক্বত
মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে বাঙালি নিধনে পাক বাহিনীর সহায়তায় গঠিত কুখ্যাত রাজাকার-আলবাদর বাহিনীর নেতৃস্থানীয়দের অন্যতম বর্তমানে জমায়েতে মওদুদীর নেতা এটিএম আজহারুল ইসলাম ৯ম সংসদ নির্বাচনে রংপুর-২ আসনে চারদলীয় জোটের প্রার্থী হয়ে শোচনীয় ভরাডুবির সম্মুখীন হয়েছে। রংপুর জেলার বদরগঞ্জ উপজেলার লোহানীপাড়ার বাসিন্দা এটিএম আজহারুল ইসলাম মুক্তিযুদ্ধের সময় ধর্মব্যবসায়ী জমায়েতে মওদুদীর ক্যাডারভিত্তিক অঙ্গসংগঠন ছাত্র সংঘের (বর্তমানে ছাত্রশিবির) জেলা কমিটির সভাপতি ছাড়াও আলবাদর বাহিনীর রংপুর শাখার কমান্ডার নিযুক্ত হয়। কারমাইকেল কলেজের ৬ শিড়্গক এবং ১ শিড়্গক-পত্নীকে হত্যায় নেতৃত্ব দিয়ে রংপুরকে এক আতঙ্কের জনপদে রূপ দেয় এটিএম আজহারুল ইসলাম।
পটভূমি: ১৯৭১ সালের ১৭ আগস্ট পাকিস্তানি বাহিনী তাদের এ দেশীয় দোসর ধর্মব্যবসায়ী জমায়েতে মওদুদী সৃষ্ট সশস্ত্র সংগঠন আলবাদরকে মিলিশিয়া বাহিনীর ¯^xK…wZ দেয়। এ উপলড়্গে ওইদিন আলবাদর বাহিনী দেশের বিভিন্ন এলাকায় সভা-সমাবেশের আয়োজন করে। এরই অংশ হিসেবে রংপুর সদরে আয়োজিত আলবাদর বাহিনীর সভায় সভাপত্বি করে এটিএম আজহারুল ইসলাম। (সূত্র: দৈনিক সংগ্রাম, ১৮ আগস্ট, ১৯৭১)। সভায় আজহারুল ইসলাম এবং তার সহযোগীরা বাঙালির রক্ত পানের শপথ নেয় বলে সভাস্থলে উপস্থিত একাধিক প্রত্যক্ষদর্শী বিভিন্ন সময় সাক্ষ্য দিয়েছেন।
৭ শিক্ষক হত্যা: ১৯৭১ সালের †m‡Þ¤^‡ii প্রথম দিকে আলবাদর কমান্ডার আজহারুল ইসলামের নেতৃত্বে পরিচালিত এক অভিযানে রংপুরের কারমাইকেল কলেজের ৬ শিক্ষক এবং ১ শিক্ষক-পত্নীকে তুলে আনা হয়। ওই সময়কার ছাত্রনেতা রফিকুল ইসলাম এবং তার ভাই সাখাওয়াত রাঙ্গা (বর্তমানে জেলা জাসদের সাধারণ সম্পাদক) এবং রংপুরের অন্যান্য মুক্তিযোদ্ধার তথ্য মতে, আজহারুলের উপস্থিতিতে এবং নির্দেশে তার সহযোগী আলবাদর সদস্যরা রংপুরের ওই ৭ জনকে কলেজের cvk^©eZ©x দমদমা এলাকায় নিয়ে বেয়োনেট দিয়ে খুঁচিয়ে খুঁচিয়ে নির্মম নির্যাতনের পর ব্রাশফায়ারে মৃত্যু নিশ্চিত করে। এ ঘটনায় আতঙ্কে শিউরে উঠে সমগ্র রংপুরবাসী।
প্রত্যক্ষদর্শী একজন মুক্তিযোদ্ধা জানান, ‘নিহত শিড়্গকদের বীভৎস লাশ যারা দেখেছেন, তাদের কাছে আজহারুল মানুষরূপী এক নরপিশাচ হিসেবে চিহ্নিত।’
মুক্তিযোদ্ধাদের দেয়া তথ্য মতে, মুক্তিযুদ্ধের সময় আজহারুল ইসলাম ৭০ জনের একটি সশস্ত্র আলবাদর স্কোয়াডের নেতৃত্ব দিত। সেই স্কোয়াডের ঘাঁটি ছিল রংপুরের টাউন হল এলাকায়। আজহারুল ও তার সহযোগীরা পাকিস্তানি সেনা কর্মকর্তাদের মনোরঞ্জনের জন্য ভয়-ভীতি দেখিয়ে এলাকার নিরীহ পরিবারের সুন্দরী তরুণী এবং গৃহবধূদের ধরে এনে সরবরাহ করত।
১৯৭১ সালের wW‡m¤^‡ii প্রথম সপ্তাহের দিকে ¯^vaxbZv সংগ্রামের বিজয় নিশ্চিত হতে থাকলে আজহারুল ইসলাম রংপুর ছেড়ে চলে আসে ঢাকায়। এরপর মেতে উঠে ইতিহাসের আরেক নৃশংস ও জঘন্যতম হত্যাযজ্ঞে। আজহারুল, নিজামী ও মুজাহিদ গংয়ের নেতৃত্বে দেশবরেণ্য বুদ্ধিজীবীদের ধরে ধরে মোহাম্মদপুরের ফিজিক্যাল ট্রেনিং কলেজে স্থাপিত টর্চার সেলে নিয়ে চালানো হতো অকথ্য নির্যাতন। সেখান থেকে তাদের নিয়ে হত্যা করা হতো রায়েরবাজারের বধ্যভূমিতে। ১৬ wW‡m¤^i পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর আত্মসমর্পণের দিন নরঘাতক আজহার তার অন্য কয়েকজন সহযোগীর সঙ্গে পাকিস্তানে পালিয়ে যায়। সেখান থেকে পাড়ি জমায় সউদী আরব। ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পরবর্তী অনুকূল পরিস্থিতিতে দেশে ফিরে আসে আজহারুল। ১৯৭৭ সাল থেকে আবারো প্রকাশ্যে সক্রিয় হয় ধর্মব্যবসায়ী জমায়েতে মওদুদীর রাজনীতিতে। (সঙ্কলিত)