কুখ্যাত ঘাতক মতির নামে আজো নরসিংদীর মানুষ আঁতকে উঠে
রাজাকার ইনফো: নরসিংদী শহরের বাজির মোড়ে দাঁড়িয়ে উত্তর-পশ্চিম দিকে দৃষ্টি মেলে ধরলে দেয়ালঘেরা যে বিশাল ভবনটি দেখা যায় সেটি এখন সরকারি টেলিফোন এক্সচেঞ্জ ভবন। কিন্তু নাম যাই হোক না কেন, নরসিংদীবাসী এটাকে টর্চারসেল ও হত্যাপুরী বলেই চেনে-জানে। আজো মুক্তিযোদ্ধা ও বয়স্করা এর সামনে দিয়ে যাওয়ার সময় আঁতকে উঠেন। ভবনটি একাত্তরে ছিল পাকিস্তানি বাহিনীর ক্যাম্প এবং মুক্তিযোদ্ধা ও মুক্তিযোদ্ধা-সহায়তাকারীদের হত্যাকারী, অসংখ্য মা-বোনের সম্ভ্রম লুটেরা, পাক বাহিনীর দোসর, এলাকার ত্রাস রাজাকার কমান্ডার মতিউর রহমান সিকদারের ঘাঁটি।
নরসিংদী সদর থানার ঘোড়াদিয়ার সেকান্দর আলী সিকদারের পুত্র মতি রাজাকারের নামে নরসিংদীর মানুষ আজও আঁতকে উঠে। পাকিস্তানি সেনাদের সঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে রাজাকার কমান্ডার মতিউর রহমান সিকদার গণহত্যা লুটপাট আর অগ্নিসংযোগের নারকীয় মহোৎসব চালাত। এলাকার মা-বোনদের তুলে দিত পাক বাহিনীর ক্যাম্পে। নরসিংদী সদরসহ সংলগ্ন এলাকার শতাধিক গ্রামকে রক্তাক্ত জনপদে পরিণত করেছিল রাজাকার মতিউর রহমান সিকদার। এলাকার মুক্তিযোদ্ধা ও মুক্তিযোদ্ধাদের আশ্রয়দাতাদের সন্ধানে রাজাকার মতি মুক্তিযুদ্ধের ৯টি মাস চষে বেড়িয়েছে নরসিংদীর গ্রাম থেকে গ্রামান্তরে।
এলাকাবাসী বলেন, মানুষ হত্যাই ছিল মতি রাজাকারের নেশা। কাউকে মুক্তিযোদ্ধাতো পরের কথা, মুক্তিযুদ্ধের সহায়তাকারী বলে বিন্দুমাত্র সন্দেহ হলেই রক্ষা ছিল না। রাজাকার মতির সন্দেহের চোখে যে পড়েছে একাত্তরে তার মৃত্যু ছিল নিশ্চিত। ঘোড়াদিয়া এলাকার জনৈক মুক্তিযোদ্ধা জানান, ১৯৭১ সালের ১লা আষাঢ় রাত আনুমানিক ২টার দিকে ঘোড়াদিয়ার পূর্বপাড়া থেকে রাজাকার কমান্ডার মতিউর রহমান সিকদার তার দলবল নিয়ে ঘোড়াদিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী প্রধান শিড়্গকসহ কয়েকজনকে ধরে নিয়ে যায় নরসিংদী টেলিফোন এক্সচেঞ্জে। রাতেই টেলিফোন এক্সচেঞ্জের পিছনে নিয়ে বেয়নেট দিয়ে খুঁচিয়ে খুঁচিয়ে নির্মমভাবে হত্যা করে তাদের। পরে ভোররাতে একই গ্রাম থেকে আরো কয়েকজনকে ধরে এনে রাজাকার মতি নরসিংদীর খাটেহারা ব্রিজে নিয়ে বেয়নেট দিয়ে নির্মমভাবে হত্যা করে। ৬ আষাঢ় সোমবার সকাল ১০টায় জনৈক মুক্তিযোদ্ধার বাবাকে রাজাকার মতিউর রহমান সিকদার ও তার সাঙ্গপাঙ্গরা এসে ঘোড়াদিয়ার নিজ বাড়ি থেকে ধরে নিয়ে বেয়নেট দিয়ে খুঁচিয়ে খুঁচিয়ে ড়্গতবিড়্গত করে নির্মমভাবে হত্যা করে খাটেহারা ব্রিজে নিয়ে গিয়ে।
আজো রাজাকার মতিউর রহমান সিকদারের কথা মনে হলে ঘোড়াদিয়া এলাকার লোকজন আঁতকে উঠেন। দেশ ¯^vaxb হওয়ার পর ঐ মুক্তিযোদ্ধা তার বাবার হত্যার বিচার চেয়ে তৎসময় মতিউর রহমান সিকদারসহ ১০ জনকে আসামি করে থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেছিলেন। তাদের বিরুদ্ধে ওয়ারেন্টও হয়েছিল। কিন্তু আজ ¯^vaxbZvi ৩৮ বছর পরও তিনি তার বাবার বিচার পাননি। জিয়ার আমলে দালাল আইন বাতিল করা হলে সে মামলা বাতিল হয়ে যায়। তিনি বর্তমানেও সরকারের কাছে তার বাবার হত্যাকারীদের বিচার দাবি করেন।
রাজাকার মতিউর রহমান ঘোড়াদিয়া এলাকার অনেককেই নির্মমভাবে হত্যা করেছে। করেছে অসংখ্য বাড়িঘর লুটপাট। ২০০১ সালে ২৫ মার্চ দৈনিক জনকণ্ঠে রাজাকার মতি সিকদারের কুকীর্তি ছাপা হলেও আজো তার বিচার হয়নি।
রাজাকার মতি এলাকার বহু মা-বোনের ইজ্জত নিজে নষ্ট করেছে, তাদেরকে তুলে দিয়েছে পাকিস্তানি সেনাদের হাতে। লুটপাট অগ্নিসংযোগ করেছে নরসিংদী শহরের বৌয়াকুড় এলাকার ঘরবাড়ি, ঘোড়াদিয়ার ঘরবাড়িসহ আরো অনেক এলাকার ঘরবাড়ি ও দোকানপাটে। মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে আজো মুক্তিযোদ্ধারা ঘৃণাভরে উচ্চারণ করেন রাজাকার কমান্ডার মতিউর রহমান সিকদারের নাম।
এলাকায় প্রচলিত আছে পাকিস্তানি সেনাদের হাত থেকে কেউ রক্ষা পেলেও রাজাকার মতির হাত থেকে রক্ষা পায়নি। ১৯৭১ সালে দেশ ¯^vaxb হওয়ার পর রাজাকার কমান্ডার মতিউর রহমান সিকদার পালিয়ে পাকিস্তানে চলে যায়। পরে ঘাতকদের গুরু গো’আযম দেশে ফেরার সময় তার সঙ্গে মতিউর রহমান সিকদারও দেশে ফিরে আসে। দেশে ফিরে এসে জামাত কর্মীদের সংগঠিত করে দল পুনঃগঠনে সক্রিয় সহায়তা করে।
নরসিংদীর মাধবদী কান্দাপাড়ার আরেক ভয়ঙ্কর দানব আব্দুর রশিদ রাজাকার। সে এখন জামাত নেতা। ১৯৭১ সালের ১৬ অক্টোবর তারিখটি এখনও মানুষ ভুলতে পারেনি। মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার আব্দুল মোতালিব পাঠান সেই ভয়াল `yt¯^‡cœi বর্ণনা দেন। ঐ দিন ভোর রাতে রাজাকার রশিদ পাকিস্তানি সেনাদের সহায়তায় মাধবদী আলমগীর তরণী ভূঁইয়ার বাড়িতে অতর্কিতে হানা দেয়। এ সময় ঐ বাড়িতে অবস্থানরত মুক্তিযোদ্ধা আনোয়ার হোসেন, মুক্তিযোদ্ধা তাইজউদ্দীন পাঠান, মুক্তিযোদ্ধা সিরাজ মিয়া, মুক্তিযোদ্ধা মোহাম্মদ আলী, মুক্তিযোদ্ধা আওলাদ হোসেন, ও সহযোগী মুক্তিযোদ্ধা মুহম্মদ নূরুল ইসলাম, মুহম্মদ জাবেদ আলী, তমিজ উদ্দীনসহ ১০ জনকে ধরে এনে ১টি কাঁঠাল গাছে ঝুলিয়ে বেয়নেট দিয়ে খুঁচিয়ে খুঁচিয়ে ও পরে গুলি করে নির্মমভাবে হত্যা করে।
জানা গেছে, ধর্মব্যবসায়ী জামাত পরিচালিত ফার ইস্ট লাইফ ইন্স্যুরেন্স কোম্পানিসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের পদস্থ ব্যক্তি মতিউর রহমান সিকদার ওরফে ’৭১-এর ঘাতক মতি এখন ঢাকায় থাকে।
( ০২ wW‡m¤^i ২০০৭ ঈসায়ীর জাতীয় দৈনিকের তথ্য Aej¤^‡b)