রাজাকার রিয়াছাত আলী wek^v‡mi হাক্বীকত
২৯ wW‡m¤^i/2008 ঈসায়ী অনুষ্ঠিত ৯ম সংসদ নির্বাচনে আশাশুনি ও শ্যামনগর উপজেলা নিয়ে গঠিত সাতক্ষীরা-৩ আসন থেকে চারদলীয় জোট প্রার্থী হয়েছিল জমায়েতে মওদুদী নেতা এএম রিয়াছাত আলী। তার বিরুদ্ধে যুদ্ধাপরাধের গুরুতর অভিযোগ রয়েছে। তার কুকর্মের বিষয়টি জাতীয় পত্রিকাসমূহে তুলে ধরে। ফলে নির্বাচনে তার শোচনীয় ভরাডুবি হয়।
১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধে সে ছিলো সাতক্ষীরার আশাশুনি উপজেলার ঘাতক শান্তিকমিটির সেক্রেটারি। রাজাকার হিসেবে পরিচিত এই জামাত নেতার বিরুদ্ধে একাত্তরে শ্যামনগর ও কালীগঞ্জ থানায় মুক্তিযোদ্ধাদের নির্বিচারে হত্যার গুরুতর অভিযোগ রয়েছে। নিহত এই মুক্তিযোদ্ধাদের একজন হলেন কালীগঞ্জের ইউনুস।
আশাশুনি ও শ্যামনগরের বাসিন্দারা জানান, একাত্তরের আগস্ট মাসে খুলনার কয়রা উপজেলার খুকরোঘাটি লঞ্চঘাটে মুক্তিযোদ্ধাদের হাতে ধরা পড়েছিল স্থানীয় রাজাকার কমান্ডার রিয়াছাত। সেখান থেকে তাকে নেয়া হয় কয়রার মুক্তিযোদ্ধা ক্যাম্পে। ক্যাম্পের দায়িত্বে ছিলেন তারই প্রতিবেশী বীর মুক্তিযোদ্ধা মতিয়ার রহমান। তখন পবিত্র রমযান মাস। মুক্তিযোদ্ধা মতিয়ারের মহানুভবতায় প্রাণভিক্ষা পায় রিয়াছাত। নিরাপদে তাকে পৌঁছে দেয়া হয় আশাশুনি উপজেলার প্রতাপনগর গ্রামের নিজ বাড়িতে। কিন্তু ¯^vaxbZvi ৩১ বছর পর আবারো পুরনো দিনে ফিরে যায় ঘাতক রিয়াছাত আলী wek^vm| অভিযোগ রয়েছে, একদিন যে মুক্তিযোদ্ধা তাকে প্রাণে বাঁচিয়েছিলেন, ২০০১ সালে সেই মতিয়ার রহমানের বাড়িতেই অগ্নিসংযোগ করে এই কুখ্যাত কৃতঘ্ন ঘাতক রিয়াছাত।
যুদ্ধাপরাধের অভিযোগ থাকলেও রাজনীতিতে রিয়াছাত আলী wek^vm এখন বেশ শক্তিশালী। তাই এবারের ৯ম সংসদ নির্বাচনে সে চারদলীয় জোট থেকে মনোনয়ন পেয়েছিল। ইতঃপূর্বে একই আসন থেকে পরপর দু’বার সাংসদ নির্বাচিতও হয় সে। এর আগে একবার †g¤^vi ও একবার চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছিল। তার বাবা সাতক্ষীরার আশাশুনির কুড়িকাহনিয়া গ্রামের মৃত আলী wek^vm পেশায় ছিল দর্জি।
রিয়াছাত আলী wek^v‡mi জন্ম সাতড়্গীরার আশাশুনি উপজেলার প্রতাপনগর গ্রামে। একাত্তরের স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে সাতক্ষীরা জেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ড কাউন্সিলের সাবেক আহ্বায়ক মতিয়ার রহমান জানান, নদী পথে এ অঞ্চলের মানুষের নিয়মিত যোগাযোগ ছিল খুলনা শহরের সঙ্গে। মুক্তিযুদ্ধ শুরু হওয়ার পরপরই রিয়াছাত আলী wek^v‡mi নেতৃত্বে গঠিত হয় শান্তিকমিটি। যুদ্ধ চলাকালে খুলনার পাকিস্তানি সেনা ক্যাম্পের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রক্ষা করত রিয়াছাত।
১৯৭১-এর জুনে মেজর আব্দুল জলিলের লঞ্চডুবি হয় সুন্দরবন সংলগ্ন গাবুরা এলাকার খোলপেটুয়া নদীতে। কোনোভাবে নদী সাঁতরে প্রতাপনগর গ্রামে চলে আসেন ওই লঞ্চে থাকা বরিশাল অঞ্চলের ৯ মুক্তিযোদ্ধা। কিন্তু রক্ষা পান না। খবর পেয়ে প্রতাপনগর ঘিরে ফেলে রাজাকার রিয়াছাত আলী ও তার লোকজন। ৯ মুক্তিযোদ্ধাকে ধরে নিয়ে যায় খুলনার পাকসেনা ক্যাম্পে। এরপর ওই ৯ মুক্তিযোদ্ধার আর কোনো খোঁজ পাওয়া যায়নি।
মুক্তিযোদ্ধা মতিয়ার রহমান আরো জানান, রিয়াছাত আলীর সহযোগিতায় একাত্তরের জুলাই মাসে পাঞ্জাব রেজিমেন্টের পাকসেনারা গানবোটে চড়ে প্রতাপনগর গ্রামে হানা দেয়। তারা ওই গ্রামের খগেন সরকারকে খুলনার ক্যাম্পে নিয়ে গুলি করে হত্যা করে। এর কিছুদিন পর একই গ্রামের সোহরাব ও জনাব আলীকে একইভাবে ধরে নিয়ে গুলি করে হত্যা করা হয় পাকিস্তানি সেনাক্যাম্পে। এ ছাড়া মুক্তিযুদ্ধের পুরো সময় খুলনা, বরিশাল, পটুয়াখালী ও বাগেরহাট এলাকার ভারতগামী শরণার্থীদের নৌকা আটকে লুটপাট করা ছিল রিয়াছাত আলী ও তার লোকজনের কাজ।
১৯৯১ সালে রিয়াছাত আলী wek^vm প্রথম সাতক্ষীরা-৩ আসন থেকে জামাতের টিকিটে সাংসদ নির্বাচিত হয়। ১৯৯৬ সালের নির্বাচনে পরাজিত হয় আওয়ামী লীগ প্রার্থীর কাছে। তবে ২০০১-এর নির্বাচনে সে একই আসন থেকে আবার সাংসদ নির্বাচিত হয়। নির্বাচিত হওয়ার মাত্র কয়েকদিনের মাথায় তারই ইন্ধনে জামাতের ক্যাডার বাহিনী মুক্তিযোদ্ধা মতিয়ার রহমানের বাড়ি লুটপাটের পর আগুন দিয়ে জ্বালিয়ে দেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। পরিবার-পরিজন নিয়ে পালিয়ে না গেলে সেদিন সপরিবারে প্রাণ হারাতেন মুক্তিযোদ্ধা মতিয়ার রহমান।
আরো অভিযোগ রয়েছে, গত জোট সরকারের আমলে রিয়াছাত আলীর পরিবারের সদস্যরা যেন বেপরোয়া হয়ে উঠে। ২০০১ সালের নির্বাচনের পর রাতারাতি দখল করে নেয় মুক্তিযোদ্ধা মতিয়ার রহমানের দু’টিসহ আওয়ামী সমর্থকদের কয়েকটি চিংড়ি ঘের। সে সাতক্ষীরা ও পাটকেলঘাটায় নির্মাণ করেছে আলিশান বাড়ি। বড় ছেলে জুলফিকার হোসেন মাদরাসায় শিক্ষকতার পাশাপাশি ঘের ব্যবসা দেখাশোনা করছে। মেজো ছেলে নুরুল আফছার সাতক্ষীরার বড় ব্যবসায়ী। রয়েছে একটি কম্পিউটার সার্ভিসিং সেন্টার ও আরএসও নামে একটি এনজিও। বড় ছেলের সরকারি খাল দখলের বিষয়টি আশাশুনিতে ব্যাপক সমালোচনার ঝড় তোলে। ১৯ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত আশাশুনি হাসপাতালের কাজের দরপত্রের m^”QZv নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন জনৈক বিএনপি নেতা। (সঙ্কলিত)