আলবাদর হেড কোয়ার্টারে পাওয়া গিয়েছিল এক বস্তা চোখ
দৈনিক পূর্বদেশ তৎকালীন বর্ষিয়ান নেতা মাওলানা আব্দুর রশিদ তর্কবাগিশের উদ্ধৃতি দিয়ে প্রতিবেদনে উল্লেখ করে, ‘হানাদার পাকবাহিনীর সহযোগী আলবাদররা পাক সেনাদের আত্মসমর্পণের পর যখন পালিয়ে যায় তখন তাদের হেড কোয়ার্টারে পাওয়া গেল এক বস্তা বোঝাই চোখ। এদেশের মানুষের চোখ। আলবাদরের খুনিরা তাদের হত্যা করে চোখ তুলে বস্তা বোঝাই করে রেখেছিল।’
বয়ো বৃদ্ধ মাওলানা খেদোক্তি করে আরো বলেন- খুনিদের এই বাহিনীর নাম দেয়া হলো আলবাদর বাহিনী। একি কোন মনঃপুত নাম? যে বদর যুদ্ধ ছিল আদর্শের জন্য, ইসলামের প্রথম লড়াই, সেই যুদ্ধের সাথে কি কোন সংযোগ এই নৃশংসতার মধ্যে ছিল? মাওলানা বলেন, হানাদারদের সহযোগী এই আলবাদর বাহিনী শুধু ইসলামের শত্রু নয়, এরা হলো জালিম।
আলবাদরের এই নৃশংসতার সাথে চীনের অত্যাচারী সম্রাট চেংসিয়েন চুং-এর হিংস্রতার সাথে মিল খুঁজে পাওয়া যায়। আন্দোলনকারী গ্রামবাসীদের সে নির্বিচারে হত্যা করেই শান্তি পায়নি। সৈন্যদের নির্দেশ দিয়েছিল নিহত গ্রামবাসীদের কান এবং পায়ের পাতা কেটে আনার জন্য, প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে মৃতদেহগুলো রাজধানীতে আনা অসুবিধা মনে করে সে এই নির্দেশ দিয়েছিল। এই কান ও পায়ের পাতা নাকি পিরামিডের মত উচু হয়েছিল; আর তাই দেখে নাকি প্রতিহিংসাপরায়ণ রাজা পরম তৃপ্তি অনুভব করেছিল। তেমনিভাবে ঘাতক নিজামীরাও বুদ্ধিজীবীদের মৃতদেহ আলবাদরের হেড কোয়ার্টারে আনা অসুবিধা বিধায় শুধু চোখ উপড়ে এনে জমা করে পৈশাচিক উল্লাসে মেতেছিল। (সঙ্কলিত)