বহু হত্যা ধর্ষণ লুটতরাজের হোতা রাজাকার আব্দুল্লাহ

একাত্তরে মুক্তিযুদ্ধকালে পাকিস্তানি সৈন্যদের দোসর রাজাকার আব্দুল্লাহ বর্তমানে নীলফামারীর বিএনপি নেতা, ঢাকা থেকে প্রকাশিত একটি ইংরেজি দৈনিকের সংবাদদাতা এবং স্থানীয় একটি সাপ্তাহিক পত্রিকার সম্পাদক-প্রকাশক¯^vaxbZv যুদ্ধের সময় আব্দুল্লাহ স্থানীয় রাজাকার ও আলবাদর বাহিনীর প্রধান ছিল[জনকণ্ঠ, ২৩ ফেব্রুয়ারি ২০০১ ঈসায়ী]

রাজাকার আব্দুল্লাহ ১৯৭১ সালে নীলফামারীর দায়িত্বে নিয়োজিত পাকিস্তানি সেনা ক্যাপ্টেন আল্লারাক্ষা খানের অনুগত মোসাহেব ছিলরাজাকার আব্দুল্লাহ অসংখ্য ¯^vaxbZv প্রিয় মানুষকে হত্যা নির্যাতনের পাশাপাশি বহু নারীকে পাক সেনাদের ক্যাম্পে ধরে নিয়ে যায়বহু মানুষের বাড়িঘরে লুটতরাজ চালিয়ে অগ্নিসংযোগ করে এলাকায় এক ত্রাসের রাজত্ব কায়িম করেদেশ ¯^vaxb হওয়ার পর ৩৭ বছর পার হয়ে গেলেও ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলো আজও সেই ক্ষত ভুলতে পারেনিভুলতে পারেনি রাজাকার আব্দুল্লাহর হিংস্র নৃশংস ভূমিকার কথা

নীলফামারী শহরের ব্যবসায়ী বোথা, তার বড় ছেলে ¯^cb, মেজ ছেলে তপন, ছাত্রলীগ সভাপতি মাহফুজুর রহমান দুলু, হেমন্ত ডাক্তার, বিঞ্চু ডাক্তার, তরুণ ব্যবসায়ী সালাউদ্দিন শাহ, কুন্দুপুকুর গ্রামের জোতদার ঘিনাসহ বহু নৃশংস হত্যাকা-ের নেপথ্যে প্রধান ভূমিকা পালন করে আব্দুল্লাহ রাজাকার এবং শান্তিকমিটিরি সভাপতি ও বর্তমানে জামাতের কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরার সদস্য অ্যাডভোকেট আব্দুল লতিফ[জনকণ্ঠ ২৩ ফেব্রুয়ারি ২০০১]

 ঐ সময় পাকিস্তানি বাহিনীকে দিয়ে জেলার যে কোনো হত্যাকা- থেকে শুরু করে সব রকম অপকর্মের সিদ্ধান্ত নেয় এ দুজনউল্লেখিত ৯ জনের হত্যাকা-ের মধ্যে ৬ ব্যক্তিকে তাদের বাড়ি থেকে ডাকবাংলোর পাকিস্তানি ক্যাম্পে নিয়ে রাখা হয়পরে দারোয়ানি (বর্তমান টেক্সটাইল মিল) এলাকায় নিয়ে তাদের এক সঙ্গে লাইন করে দাঁড় করিয়ে পাখির মত গুলি করে হত্যা করা হয় এবং মাটি চাপা দিয়ে রাখা হয়ব্যবসায়ী বোথার মেয়েকে আশ্রয় দেয়ার অপরাধে সালাউদ্দীনকে বাড়ি থেকে ধরে এনে গুলি করে হত্যা করা হয়উকিল পাড়ার আবুল হোসেন চৌধুরীর পুত্র ছাত্রলীগের তৎকালীন সভাপতি মাহফুজুর রহমান দুলুকে নৃশংসভাবে গুলি করে হত্যা করা হয়দুলু বাঁচার জন্য রাজাকার আব্দুল্লাহ ও লতিফের কাছে প্রাণভিক্ষা চেয়ে তাদের হাত-পা ধরেও মন গলাতে পারেনিকুন্দুপুকুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ঘিনা সেনা ক্যাম্পে এসে দেখা না করায় জিপ গাড়ির পিছনে হাতে দড়ি বেঁধে রাস্তায় ছেঁচড়িয়ে এনে গুলি করে হত্যা করা হয়একাত্তরে মুক্তিযুদ্ধকালে পাকিস্তানি সৈন্যদের দোসর রাজাকার আব্দুল্লাহ বর্তমানে নীলফামারীর বিএনপি নেতা, ঢাকা থেকে প্রকাশিত একটি ইংরেজি দৈনিকের সংবাদদাতা এবং স্থানীয় একটি সাপ্তাহিক পত্রিকার সম্পাদক-প্রকাশক¯^vaxbZv যুদ্ধের সময় আব্দুল্লাহ স্থানীয় রাজাকার ও আলবাদর বাহিনীর প্রধান ছিল [জনকণ্ঠ, ২৩ ফেব্রুয়ারি ২০০১ ঈসায়ী]

রাজাকার আব্দুল্লাহ সবচেয়ে লোমহর্ষক ঘটনাটি ঘটায় ১০ এপ্রিল ১৯৭১সেদিন জেলার জলঢাকা উপজেলার প্রায় ৩ শতাধিক নারী-পুরুষ ও শিশু ভারতে যাওয়ার জন্য কালীগঞ্জ নামক স্থানে জড়ো হচ্ছিল; ঠিক সে সময় বিপরীত দিক থেকে একটি জলপাই রঙের গাড়ি যেন যমদূত হয়ে সামনে দাঁড়ায়সেই গাড়ির সামনের সীটেই বসা ছিল রাজাকার আব্দুল্লাহতার নির্দেশেই নারী ও পুরুষদের দুই ভাগে বিভক্ত করে ব্রাশফায়ার করে পাখির মতো হত্যা করে জেলার ইতিহাসের চরম কালো অধ্যায়ের সৃষ্টি করে রাজাকার আব্দুল্লাহএরপর গাদাগাদি করে গর্তে লাশগুলো মাটি চাপা দেয়া হয়বর্তমানে স্থানটি কালীগঞ্জ বধ্যভূমি হিসেবে পরিচিত এবং এটিই জেলার সবচেয়ে বড় বধ্যভূমি

আব্দুল্লাহ রাজাকার ও তার দোসরদের হাতে নিহত নীলফামারী শহরের মাধার মোড় এলাকার বিশিষ্ট ব্যবসায়ী সালাউদ্দিনের বিধবা স্ত্রী মোসাম্মাত ছালেহা বেগম (৬০) সেদিনের সেই নারকীয় ঘটনার বর্ণনা করতে গিয়ে বারবার দীর্ঘশ্বাস ফেলেনতিনি বলেন, ২২ এপ্রিল ৭১ রাত ৯টায় রাজাকার আব্দুল্লাহ ও কায়ছারের নেতৃত্বে আরো ৬/৭ জন তার ¯^vgx‡K বাড়ি থেকে নিয়ে যায় এবং উপজেলার (বর্তমানে উপজেলা প্রশাসন ভবন) পেছন দিকে নিয়ে গুলি করে হত্যা করেতিনি ১৯৭৩ সালে শহীদ পরিবার হিসেবে ২ হাজার টাকা সরকারি অনুদান পাওয়ার কথাও জানান

দেশ ¯^vaxb হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে রাজাকার আব্দুল্লাহ রাজা নাম ধারণ করে রংপুরে আত্মগোপন করে থাকে এবং বঙ্গবন্ধু হত্যাকা-ের পর নীলফামারীতে ফিরে আসেহত্যা, সম্ভ্রমহরণ ও লুটপাটের অসংখ্য ঘটনার নায়ক আব্দুল্লাহ জনসমক্ষে আসার সঙ্গে সঙ্গে স্থানীয় লোকজন তাকে ধরে ফেলে এবং শহরের বাবুপাড়া সড়কে থুতু ফেলে চেটে খাওয়ায় ও টেনেহেঁচড়ে নিয়ে গিয়ে একটি গাছের সঙ্গে বেঁধে রাখেএ সময় এলাকার একজন প্রভাবশালী ব্যক্তি লোকজনের হাত থেকে তাকে উদ্ধার করে ছেড়ে দেয়এভাবে নিশ্চিত মৃত্যুর হাত থেকে বেঁচে গিয়ে রাজাকার আব্দুল্লাহ কিছুদিন চুপ মেরে থাকেলেও জিয়ার আমলে ধীরে ধীরে প্রভাব বিস্তার করে একাধারে সাংবাদিক ও রাতারাতি বিএনপি নেতা বনে যায়নিজের অস্তিত্ব রড়্গায় বিএনপিতে যোগদান করে হালে পানি পেলেও নীলফামারী প্রেসক্লাব থেকে তাকে বহিষ্কার করা হয়ঘাতক আব্দুল্লাহসহ সে সময়ের অনেক চিহ্নিত রাজাকার ও পাকিস্তানি বাহিনীর দোসর যারা এখন নীলফামারীতে নানাভাবে প্রতিষ্ঠিত তাদের গ্রেফতার ও বিচারের দাবি উঠেছে সর্বমহল থেকে (৩০ b‡f¤^i ২০০৭ ঈসায়ীর জাতীয় দৈনিকের তথ্য Aej¤^‡b)