হত্যা সম্ভ্রমহরণ লুটতরাজের হোতা জামায়েতে মওদুদীর নেতা ঘোড়ামারা আজিজ
১৯৭১-এর মহান মুক্তিযুদ্ধকালে রাজাকার হিসেবে তার সক্রিয় ¯^vaxbZvwe‡ivax ভূমিকার কথা এখনো এলাকার লোকজনের মুখে মুখে ফেরে। এই অঞ্চলে সে ঘোড়ামারা আজিজ নামে পরিচিত। একাত্তরে মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে মুক্তিযোদ্ধাদের যে পাখির মতো গুলি করে হত্যা করত; এমনকি মুক্তিযোদ্ধা ভেবে ঘোড়াকে গুলি করে হত্যা করায় ঘোড়ামারা আজিজ নামে যে ব্যাপক পরিচিত, সেই রাজাকার কমান্ডার আব্দুল আজিজ জমায়েতে মওদুদীর গাইবান্ধা জেলা কমিটির শীর্ষ নেতা। মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে গাইবান্ধা জেলায় পাক বাহিনীর একনিষ্ঠ দোসর হিসেবে রাজকাররা যে অত্যাচার-নির্যাতন, হত্যা, নারীর সম্ভ্রমহরণ ও লুটতরাজ চালিয়েছিল এলাকার লোকজন সে কথা ভেবে আজও শিউরে উঠে। সেদিনের সে রাজকারদের একজন আব্দুল আজিজ গাইবান্ধা জেলা জমায়েতে মওদুদীর আমীর পদেও অধিষ্ঠিত হয়। হত্যা, নারীর সম্ভ্রমহরণ আর বাড়িঘর লুটপাট, অগ্নিসংযোগের মাধ্যমে এলাকায় সে ত্রাসের রাজত্ব কায়িম করেছিল।
সরেজমিনে অনুসন্ধানকালে গাইবান্ধার চন্ডিপুর, মাঠেরহাট, দারিয়াপুর, পাঁচপীর এলাকার মুক্তিযোদ্ধা ও সাধারণ মানুষ জানান, মুক্তিযোদ্ধা ও মুক্তিযুদ্ধ সমর্থক তথা ¯^vaxbZKvgx‡`i বাড়িঘর লুটপাট, জ্বালানো, মা-বোনের ইজ্জতহরণ, নৃশংসভাবে খুনের ঘটনার নেতৃত্বদানকারী গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ থানার তারাপুর গ্রামের আব্দুল আজিজ মুক্তিযুদ্ধের সময় জেলার রাজাকার কমান্ডার হিসাবে দায়িত্ব পালনকালে মুক্তিযোদ্ধা হত্যা আর লুটপাট, অগ্নিসংযোগের মাধ্যমে এলাকায় ত্রাসের রাজত্ব কায়িম করেছিল। এই রাজাকার কমান্ডার তাদের সহযোগীদের মারফত গ্রামের মধ্যে কে মুক্তিযোদ্ধা, কারা মুক্তিযুদ্ধের সমর্থক খোঁজ নিয়ে নির্বিচারে তাদের উপর অত্যাচার চালাত। তাদের জোরপূর্বক ধরে এনে হত্যা অথবা পঙ্গু করে দিত।
রাজাকার কমান্ডার আব্দুল আজিজ ও তার সহযোগীরা একদিন সুন্দরগঞ্জে এক এলাকার বধ্যভূমিতে ১৭ জন মুক্তিযোদ্ধাকে গুলি করে হত্যা করে মাটিচাপা দিয়ে রেখেছিল। সেদিনের সেই গুলির শব্দে আশপাশের এলাকা প্রকম্পিত হয়ে উঠেছিল। আরেকদিন মুক্তিযুদ্ধে যাওয়া একই পরিবারের ৭ জনকে ধরে ব্রহ্মপুত্র পাড়ে দাঁড় করিয়ে বেয়োনেট দিয়ে খুঁচিয়ে খুঁচিয়ে হত্যা করেছিল। বেয়োনেটের আঘাতে সেদিন ঐ ৭ জনের আর্তচিৎকারে আকাশ-বাতাস ভারি হয়ে উঠেছিল। এরকম শত মুক্তিযোদ্ধা, মুক্তিযুদ্ধের সমর্থকদের ধরে এনে সে বেয়োনেট দিয়ে খুঁচিয়ে অথবা গুলি করে হত্যা করেছে।
আব্দুল আজিজ মুক্তিযোদ্ধাদের ত্রাস ছিল। সে মুক্তিযোদ্ধাদের পাখির মতো গুলি করে হত্যা করত। এ কারণে পাক বাহিনী এই রাজাকার কমান্ডার আব্দুল আজিজকে পুরস্কার হিসেবে একটি পিস্তল দিয়েছিল। এই পিস্তল দিয়ে সে অসংখ্য মানুষকে হত্যা করেছে। একদিন সন্ধ্যার দিকে মাঠেরহাটের পাশে কমান্ডার আব্দুল আজিজ কয়েকজন রাজাকার নিয়ে একটি ব্রিজ পাহারা দিচ্ছিল। কারণ এই ব্রিজটি ভাঙ্গার পরিকল্পনা করেছিল মুক্তিযোদ্ধারা। হঠাৎ কিছু দূরে খটখট শব্দ ও কিছু একটা এগিয়ে আসতে দেখতে পায় ওরা। সঙ্গে সঙ্গে রাজাকারদের পজিশন নিতে নির্দেশ দিয়ে গুলি ছুঁড়তে থাকে এবং রাজাকারদেরও গুলির নির্দেশ দেয়। কিছুক্ষণ পর ঐ অদৃশ্য বস্তুটিকে দেখতে গিয়ে সে দেখতে পায় গুলিবিদ্ধ হয়ে একটি ঘোড়া মারা গেছে।
সেই রাজাকার কমান্ডার আব্দুল আজিজ তার রাজাকার বাহিনী নিয়ে কোন গ্রামে ঢুকলে সে গ্রাম মানুষশূন্য হয়ে পড়ত। যে যেদিকে যেখানে পারে লুকিয়ে পড়ত। বৃদ্ধ, শিশু, নারী কেউই তার হাত থেকে রেহাই পেত না। সন্দেহ হলেই তাকে রাজাকার দিয়ে পিঠমোড়া করে বেঁধে তিস্তা-ব্রহ্মপুত্রের পাড়ে নিয়ে গিয়ে বেয়োনেট দিয়ে খুঁচিয়ে খুঁচিয়ে হত্যা করত। ঘাতক আব্দুল আজিজের বিরুদ্ধে নারীর সম্ভ্রমহরণ ও নির্যাতনের বিভিন্ন অভিযোগ করেছেন এলাকাবাসী। সে নিজে এবং তার রাজাকাররা বহু নারীর ইজ্জত লুণ্ঠন করেছে এবং বহু নারীকে পাক বাহিনীর হাতে তুলে দিয়েছে বিকৃত ভোগের জন্য।
এলাকাবাসী জানায়, বছর দেড় দুয়েক আগে (২০০১ সালের তথ্য) এই আব্দুল আজিজ তার বাড়ির কাজের মেয়ের সাথে অবৈধ সম্পর্ক গড়ে তাকে সন্তানসম্ভাবা করে। এ নিয়ে অনেক দেন-দরবার এবং গ্রামে সালিশ বৈঠকও হয়েছে বলে তারা জানায়। এই ঘটনা এবং পার্টির অর্থ ও মোটর সাইকেল আত্মসাতের দায়ে সে আমিরী পদ থেকে কিছুদিনের জন্য বরখাস্তও হয়েছিল। তবে মাওলানা আবদুল আজিজ এখন জমায়েতে মওদুদীর গাইবান্ধা জেলা কমিটির সদস্য। (সঙ্কলিত)