রাজাকার মাওলানা ফরিদ উদ্দিন চৌধুরীর হাক্বীক্বত
নবম সংসদ নির্বাচনে জকিগঞ্জ-কানাইঘাট উপজেলা নিয়ে গঠিত সিলেট-৫ আসন থেকে চারদলীয় জোট প্রার্থী হয়েছিল জমায়েতে মওদুদীর কর্মপরিষদ সদস্য মাও. ফরিদ উদ্দিন চৌধুরী। একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধের সময় সে ছিলো ছাত্রসংঘের সিলেট জেলা সভাপতি ও সিলেট আলবাদর বাহিনীর কমান্ডার। একাত্তরে মুক্তিযুদ্ধের আনুষ্ঠানিকভাবে ¯^vaxbZvi বিরোধিতা করে তৎকালীন ছাত্রসংঘ (বর্তমান শিবির) কর্মীরা পাক সেনাদের পড়্গ নেয়। সে দলে মাও. ফরিদ উদ্দিনও ছিলো। সিলেট ও কানাইঘাটের একাধিক মুক্তিযোদ্ধার সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, একাত্তরে ফরিদ উদ্দিন চৌধুরী সিলেট এমসি কলেজে বিএ শ্রেণীতে পড়তো। ঐ সময় সে ছাত্রসংঘের সভাপতি নির্বাচিত হয়েছিল। পাক সেনাদের সহযোগিতা করতে স্থানীয় দোসরদের নিয়ে গঠিত হয় আলবাদর বাহিনী। ফরিদ উদ্দিন ছিলো সেই বাহিনীর কমান্ডার। সিলেটের খাদিমপাড়ার ৩১ পাঞ্জাব রেজিমেন্টের হেড কোয়ার্টারে সভা করে ফরিদ উদ্দিন আলবাদর বাহিনী গঠন করে বলে স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধারা জানিয়েছেন। তারা বলেছেন, ঐ সময় পাক সেনাদের সঙ্গে সেও মুক্তিযোদ্ধা নির্যাতন ও সম্পদ লুটপাটে অংশ নেয়।
সিলেট বিভাগীয় মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডের কমান্ডার এস সি জুয়েল জানান, সিলেটে মুক্তিযোদ্ধাদের নির্যাতন ও সম্পত্তি লুটপাটই ছিল ফরিদ উদ্দিনের কাজ। তবে সিলেটের চেয়ে কানাইঘাটেই সে বেশি ধ্বংসাত্মক কর্মকা- চালিয়েছিলো বলে মন্তব্য করেন তিনি। সিলেট আলবাদর বাহিনীর কমান্ডার ছিলো সে।
মুক্তিযোদ্ধা সদর উদ্দিন জানান, সিলেটে মুক্তিযুদ্ধবিরোধী শক্তিকে সংগঠিত করার দায়িত্বে ছিলো ফরিদ উদ্দিন চৌধুরী। স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধারা আরো জানান, দেশ ¯^vaxb হওয়ার পর আত্মগোপনে চলে যায় ফরিদ উদ্দিন চৌধুরী। আশির দশকে জিয়াউর রহমান সরকারের আমলে অন্যান্য যুদ্ধাপরাধীর মতো সে পুনর্বাসিত হয়। কিছুদিন সিলেটের গহরপুর মসজিদের ইমামের দায়িত্ব পালন করে। এরপর শাহজালাল জামেয়া মাদরাসা স্থাপন করে বনে যায় প্রিন্সিপাল। নিজের নামের আগেও যোগ করে অধ্যড়্গ উপাধি। বিগত জোট সরকারের আমলে জমায়েতে মওদুদীর টিকিটে সিলেট-৫ থেকে সাংসদ নির্বাচিত হয়। (সঙ্কলিত)