(2)আমরা ঠিক সময়ে গিয়ে পৌঁছলাম উকিলের অফিসে। উকিলের নাম.....
কাসেম পরিচয় করিয়ে দিল। বলল, আমার আঙ্কেল জনাব মিসকীন। তোমার সাথে কথা বলতে এসেছে। করমর্দন করে সে আমাকে বসতে বলল। তারপর বলল, বল, তুমি কি কথা বলতে এসেছ?
কি অভিযোগে এমন একজন পায়াস (ধর্মপরায়ণ) মানুষকে গ্রেফতার করা হল?
তার বিরুদ্ধে অভিযোগ হল: সেক্সুয়েল এবিউসমেন্ট, চাইল্ড মলেস্টেশন।
কে করেছে অভিযোগ?
এ পর্যন্ত তিনটা অভিযোগ হয়েছে। প্রথম হয়েছে ছয়মাস আগে। একটি বার বছরের মেয়ের বাবা-মা অভিযোগ করেছে। তাদের মেয়েকে ধর্মীয় শিক্ষা দেবার সময় সে মলেস্ট করেছে। সেই অভিযোগের পর পুলিশ তাকে গ্রেফতার করেনি। কারণ সে একজন ষাটোর্ধ বৃদ্ধ এবং পায়াস লোক। ফাইভ টাইম সে ইবাদত করে, বেশিরভাগ সময় মসজিদে কাটায়। কিন্তু পুলিশ তাকে নজরে রেখেছে। তারপর দু’মাস আগে একই ধরনের অভিযোগ আসে আর একটি পরিবারের কাছ থেকে। এখানেও সে ধর্মীয় শিক্ষা দিত। দশ বছরের একটি মেয়েকে সে কোলে বসিয়ে পড়াচ্ছিল। তার মা দেখে ফেলে ইয়াসিনকে শিক্ষকের কাজ থেকে বাদ দিয়ে পুলিশে অভিযোগ করে। পুলিশ আরও প্রমাণের অপেক্ষায় ছিল। একদিন বিকেলে একটি বার বছরের মেয়ে মেইল চেক করার জন্য মেইল রুমে যায়। তখন অন্য কোন লোকজন ছিল না সেখানে। সাদা পোশাকে পুলিশ তার উপর নজর রাখছিল। যখন মেয়েটি মেইল রুমে ঢুকে তার পিছু পিছু ইয়াসিনও ঢুকে। যদিও তার মেইল চেক করার চাবি ছিল না। এক সময় সে মেয়েটিকে খুব আদর করে বুকে জড়িয়ে ধরতেই মেয়েটি তার বাহু থেকে ফসকে দে ছুট। এ সময় দূরে লবির এক কোণে দাঁড়ানো পুলিশ দেখে ফেলে এবং হাতে নাতে গ্রেফতার করে। এসব মামলা খুবই স্পর্শকাতর। কোন সাক্ষী লাগে না। তার বিরুদ্ধে তিনটা অভিযোগ। এখন ভাবছি কিভাবে তাকে বাঁচানো যায়। অথবা মিনিমাম পানিসমেন্ট কিভাবে হতে পারে। আমি আমার আরও সহকারীদের নিয়ে আগামীকাল বসব এই মামলাটা নিয়ে আলোচনার জন্য। এখন কোন পথে এগুনো যায় তা তোমাকে তিন দিন পর বলতে পারব। তুমি বরং তিন দিন পর আমার এখানে আর একবার এস অথবা ফোন করো। আমার এখন কোর্টে যেতে হবে। তোমার সাথে আর কথা বলতে পারব না। সি ইউ, বাই.....।
তিন দিন পর কাসেমকে নিয়ে উপস্থিত হলাম উকিলের অফিসে। উকিল আমাদের দেখে কুশল বিনিময় করে বসতে বলল। আমরা বসার পর উকিল আমার দিকে চুপচাপ তাকিয়ে রইল কিছুক্ষণ। তারপর বলল, দেখ আমার পঁচিশ বছর ওকালতি জীবনে এমন অদ্ভুত মক্কেলের দেখা পাইনি। সে নিজের পায়ে নিজে কুড়াল মেরেছে। দোষ ¯^xKvi করে সে একটা স্টেটমেন্ট দিয়েছে। তাতে মনে হয় তার বড় ধরনের শাস্তি হয়ে যাবে। আমি ভেবে দেখলাম তাকে সব দোষ দেয়া যায় না। সে ঘাবড়ে গেছে এবং ভয়ে ভাল করে কথাও বলতে পারে না। বোধ হয় পুলিশের চাপে পড়ে এবং ভয়ে এসব জবানবন্দি দিয়েছে। পুলিশ তার উপর খুব চাপ দিয়েছে। কারণ এদেশে সে আছে মাত্র একবছর। তার অতীত m¤^‡Ü কিছুই জানা নেই। তার অতীত জানতে হলে তার দেশে যেতে হবে। তাই তাকে খুব চাপ দিয়ে তার মুখ থেকেই তার অতীত জেনে নিল। সে এক বিরাট স্টেটমেন্ট। তাতে মামলার সবকিছু তালগোল পাকিয়ে ফেলেছে।
কি দিয়েছে সে জবানবন্দি?
আমি তো এখনও কিছুই দেখিনি। দোভাষীর সাহায্যে সে তার নিজের ভাষায় বলেছে তার তা এখন টাইপ হচ্ছে। একটা কপির জন্য আমি দরখাস্ত করেছি। কাল পরশুর মাঝে পেয়ে যাব। তখন বুঝতে পারব কোন দৃষ্টি নিয়ে মামলা লড়তে হবে। জবানবন্দি না দেখে এখন কিছুই বলতে পারব না। তোমরা বরং দু’দিন পর আস। সব দেখে আলোচনা করা যাবে।
আমরা সেখান থেকে বেরিয়ে দু’জন অনেকক্ষণ চুপচাপ হাটলাম। সাবওয়ের কাছে এসে কাসেম বলল, কাকা, কি হতে পারে জবানবন্দি?
কি আর হবে? বোধ হয় দোষ কিছু করেছে যা আমরা জানি না এবং তা ¯^xKvi করেছে। এদেশে দোষ ¯^xKvi করলে অনুকম্পার দৃষ্টিতে শাস্তি হয়। জবানবন্দি দিয়ে বোধ হয় ভালই করেছে। তারপর সারা পথ দু’জনের আর কোন কথা হয়নি।
দুদিনের পর আবার যখন উকিলের অফিসে গেলাম। উকিল তখন অন্য মক্কেলের সাথে ব্যস্ত । আমাদের দেখে উঠে এল এবং বলল: আমি এখন একটা বড় মামলার মক্কেলের সাথে ব্যস্ত আছি। জবানবন্দির কপি আমি পেয়েছি, তার নিজের ভাষা বাংলা এবং ইংরেজি দু’টোই আছে। আমি ওই মক্কেলের সাথে কথা শেষ করে আসতে আসতে তুমি বরং জবানবন্দিটা এক নজর দেখে নাও। এই বলে সে একটা ফাইল আমার হাত দিয়ে পাশের কামরায় চলে গেল।
আমি ফাইলটা খুলে দেখলাম। প্রথমেই বাংলায় জবানবন্দি। তার নীচে ইংরেজিতে টাইপ করা। নিজের ভাষাতেই পড়তে ¯^v”Q›` বোধ করলাম। বাংলায় ৬২ পৃষ্ঠা। এত বড় জবানবন্দি! কি লিখেছে এত সব! কতক্ষণে শেষ করব! বেচারা! ভয়ে মুখে যা এসেছে তাই বোধ হয় বলেছে। দেখা যাক কি বলেছে।
আমি পড়তে শুরু করলাম:
জবানবন্দি-
আমার নাম আলহাজ্জ মুহাম্মদ ইয়াসিন হাওলাদার। বাড়ী বাংলাদেশের .. জেলার... গ্রামে। পিতা মৃত: মুহাম্মদ আতর আলী হাওলাদার। স্থায়ী ঠিকনা... বাংলাদেশ। বর্তমান ঠিকানা .... কানাডা।
আমার যখন পঁচিশ বছর বয়স তখনই আমার পিতা আমার বিয়ে দেন আমাদেরই গ্রামের শুক্কর বেপারীর একমাত্র মেয়ে ষোড়সি আমেনার সাথে। আমি দেরীতে লেখাপড়া শুরু করি। যখন মাদরাসার ফাজিল শ্রেণীতে পড়ি তখন দেশে যুদ্ধ শুরু হয়। তখন আমার বয়স তিরিশের মত। আমার মাদাসার প্রিন্সিপাল কলিমুল্লাহ হুযূর আমাকে খুব স্নেহ করতেন। তিনি একদিন বললেন, দেশটা ইন্ডিয়া নিয়ে যাচ্ছে। এই পাক ওয়াতানকে রক্ষা করা প্রতিটি মুসলমানের দায়িত্ব। এখন জিহাদের সময়। বসে থাকলে চলবে না। দেশটা রক্ষা কর। চলে যাও রাজাকার বাহিনীতে। যুদ্ধে ঝাপিয়ে পড়। বাঁচলে গাজী, মরলে শহীদ মানে বেহেস্ত নসীব।
কলিমুল্লাহ হুযূরের একটা চিঠি নিয়ে আমি ঢাকার মিরপুরের উদ্দেশ্যে রওয়ানা দিলাম। আমার স্ত্রী আমেনাকে বলে এলাম আমি হুযূরের কাজে ঢাকা যাচ্ছি, ফিরতে কতদিন লাগবে জানি না।
যে ঠিকানায় এসে পৌঁছলাম সেটা একটা ছোট একতলা বাড়ী। চিঠি যার নামে দিয়েছে তার নাম মৌলানা ইকবাল আনসারী। দরজায় একটা লোকের সাথে দেখা হল। ইকবাল আনসারীর নাম বলতেই ভেতরে নিয়ে গেল। দেখলাম তিনি একজন জবরদস্ত আলিম। মাথায় পাক কিস্তি টুপি, মুখে কাঁচাপাকা চাপ দাড়ি। পরনে j¤^v শেরোয়ানি। হাতে পানের ডিবক্ষা। পানের রসে ঠোট লাল হয়ে আছে। সালাম দিয়ে চিঠিটা তার হাতে দিতেই তিনি খুলে পড়লেন। তারপর বললেন, মেরা দুস্ত তুমকো ভেজা, তুম বাঙাল হ্যায়, উর্দু জানতে হো?
মাদরাসায় আমি আরবীর চেয়ে উর্দুতে ভাল রেজাল্ট করতাম। ভাল বলতে পারি। বললাম, জি হুযূর, উর্দু জানতে হো।
জু বুলেগা সব কার সেকতা হু?
জি হুযূর, কাজ করতেই তো এসেছি। এই দেশকে শত্রম্নর হাত থেকে রক্ষা করতে হবে। তাই যুদ্ধে যোগ দিতে এসেছি। আমাকে সুযোগ দিন দেশের খিদমত করার জন্য।
তিনি খুশি হয়ে ডাক দিলেন, আশিক! ইদার আও। পাশের রুম থেকে আশিক নামক লোকটি এসে দাঁড়াল। তার মাথায় পাগড়ী, j¤^v দাড়ি, পরনে পাকিস্ত ানী শেরুয়ানি। ইকবাল হুযূর বললেন, ইয়ে আদমি কো মেরা দুস্ত ভেজা। উসকু সব কুচ শিখা লও। এক পিস্ত ল দে দও।
সেই থেকে আমার নতুন জীবনের যাত্রা শুরু।
কি অভিযোগে এমন একজন পায়াস (ধর্মপরায়ণ) মানুষকে গ্রেফতার করা হল?
তার বিরুদ্ধে অভিযোগ হল: সেক্সুয়েল এবিউসমেন্ট, চাইল্ড মলেস্টেশন।
কে করেছে অভিযোগ?
এ পর্যন্ত তিনটা অভিযোগ হয়েছে। প্রথম হয়েছে ছয়মাস আগে। একটি বার বছরের মেয়ের বাবা-মা অভিযোগ করেছে। তাদের মেয়েকে ধর্মীয় শিক্ষা দেবার সময় সে মলেস্ট করেছে। সেই অভিযোগের পর পুলিশ তাকে গ্রেফতার করেনি। কারণ সে একজন ষাটোর্ধ বৃদ্ধ এবং পায়াস লোক। ফাইভ টাইম সে ইবাদত করে, বেশিরভাগ সময় মসজিদে কাটায়। কিন্তু পুলিশ তাকে নজরে রেখেছে। তারপর দু’মাস আগে একই ধরনের অভিযোগ আসে আর একটি পরিবারের কাছ থেকে। এখানেও সে ধর্মীয় শিক্ষা দিত। দশ বছরের একটি মেয়েকে সে কোলে বসিয়ে পড়াচ্ছিল। তার মা দেখে ফেলে ইয়াসিনকে শিক্ষকের কাজ থেকে বাদ দিয়ে পুলিশে অভিযোগ করে। পুলিশ আরও প্রমাণের অপেক্ষায় ছিল। একদিন বিকেলে একটি বার বছরের মেয়ে মেইল চেক করার জন্য মেইল রুমে যায়। তখন অন্য কোন লোকজন ছিল না সেখানে। সাদা পোশাকে পুলিশ তার উপর নজর রাখছিল। যখন মেয়েটি মেইল রুমে ঢুকে তার পিছু পিছু ইয়াসিনও ঢুকে। যদিও তার মেইল চেক করার চাবি ছিল না। এক সময় সে মেয়েটিকে খুব আদর করে বুকে জড়িয়ে ধরতেই মেয়েটি তার বাহু থেকে ফসকে দে ছুট। এ সময় দূরে লবির এক কোণে দাঁড়ানো পুলিশ দেখে ফেলে এবং হাতে নাতে গ্রেফতার করে। এসব মামলা খুবই স্পর্শকাতর। কোন সাক্ষী লাগে না। তার বিরুদ্ধে তিনটা অভিযোগ। এখন ভাবছি কিভাবে তাকে বাঁচানো যায়। অথবা মিনিমাম পানিসমেন্ট কিভাবে হতে পারে। আমি আমার আরও সহকারীদের নিয়ে আগামীকাল বসব এই মামলাটা নিয়ে আলোচনার জন্য। এখন কোন পথে এগুনো যায় তা তোমাকে তিন দিন পর বলতে পারব। তুমি বরং তিন দিন পর আমার এখানে আর একবার এস অথবা ফোন করো। আমার এখন কোর্টে যেতে হবে। তোমার সাথে আর কথা বলতে পারব না। সি ইউ, বাই.....।
তিন দিন পর কাসেমকে নিয়ে উপস্থিত হলাম উকিলের অফিসে। উকিল আমাদের দেখে কুশল বিনিময় করে বসতে বলল। আমরা বসার পর উকিল আমার দিকে চুপচাপ তাকিয়ে রইল কিছুক্ষণ। তারপর বলল, দেখ আমার পঁচিশ বছর ওকালতি জীবনে এমন অদ্ভুত মক্কেলের দেখা পাইনি। সে নিজের পায়ে নিজে কুড়াল মেরেছে। দোষ ¯^xKvi করে সে একটা স্টেটমেন্ট দিয়েছে। তাতে মনে হয় তার বড় ধরনের শাস্তি হয়ে যাবে। আমি ভেবে দেখলাম তাকে সব দোষ দেয়া যায় না। সে ঘাবড়ে গেছে এবং ভয়ে ভাল করে কথাও বলতে পারে না। বোধ হয় পুলিশের চাপে পড়ে এবং ভয়ে এসব জবানবন্দি দিয়েছে। পুলিশ তার উপর খুব চাপ দিয়েছে। কারণ এদেশে সে আছে মাত্র একবছর। তার অতীত m¤^‡Ü কিছুই জানা নেই। তার অতীত জানতে হলে তার দেশে যেতে হবে। তাই তাকে খুব চাপ দিয়ে তার মুখ থেকেই তার অতীত জেনে নিল। সে এক বিরাট স্টেটমেন্ট। তাতে মামলার সবকিছু তালগোল পাকিয়ে ফেলেছে।
কি দিয়েছে সে জবানবন্দি?
আমি তো এখনও কিছুই দেখিনি। দোভাষীর সাহায্যে সে তার নিজের ভাষায় বলেছে তার তা এখন টাইপ হচ্ছে। একটা কপির জন্য আমি দরখাস্ত করেছি। কাল পরশুর মাঝে পেয়ে যাব। তখন বুঝতে পারব কোন দৃষ্টি নিয়ে মামলা লড়তে হবে। জবানবন্দি না দেখে এখন কিছুই বলতে পারব না। তোমরা বরং দু’দিন পর আস। সব দেখে আলোচনা করা যাবে।
আমরা সেখান থেকে বেরিয়ে দু’জন অনেকক্ষণ চুপচাপ হাটলাম। সাবওয়ের কাছে এসে কাসেম বলল, কাকা, কি হতে পারে জবানবন্দি?
কি আর হবে? বোধ হয় দোষ কিছু করেছে যা আমরা জানি না এবং তা ¯^xKvi করেছে। এদেশে দোষ ¯^xKvi করলে অনুকম্পার দৃষ্টিতে শাস্তি হয়। জবানবন্দি দিয়ে বোধ হয় ভালই করেছে। তারপর সারা পথ দু’জনের আর কোন কথা হয়নি।
দুদিনের পর আবার যখন উকিলের অফিসে গেলাম। উকিল তখন অন্য মক্কেলের সাথে ব্যস্ত । আমাদের দেখে উঠে এল এবং বলল: আমি এখন একটা বড় মামলার মক্কেলের সাথে ব্যস্ত আছি। জবানবন্দির কপি আমি পেয়েছি, তার নিজের ভাষা বাংলা এবং ইংরেজি দু’টোই আছে। আমি ওই মক্কেলের সাথে কথা শেষ করে আসতে আসতে তুমি বরং জবানবন্দিটা এক নজর দেখে নাও। এই বলে সে একটা ফাইল আমার হাত দিয়ে পাশের কামরায় চলে গেল।
আমি ফাইলটা খুলে দেখলাম। প্রথমেই বাংলায় জবানবন্দি। তার নীচে ইংরেজিতে টাইপ করা। নিজের ভাষাতেই পড়তে ¯^v”Q›` বোধ করলাম। বাংলায় ৬২ পৃষ্ঠা। এত বড় জবানবন্দি! কি লিখেছে এত সব! কতক্ষণে শেষ করব! বেচারা! ভয়ে মুখে যা এসেছে তাই বোধ হয় বলেছে। দেখা যাক কি বলেছে।
আমি পড়তে শুরু করলাম:
জবানবন্দি-
আমার নাম আলহাজ্জ মুহাম্মদ ইয়াসিন হাওলাদার। বাড়ী বাংলাদেশের .. জেলার... গ্রামে। পিতা মৃত: মুহাম্মদ আতর আলী হাওলাদার। স্থায়ী ঠিকনা... বাংলাদেশ। বর্তমান ঠিকানা .... কানাডা।
আমার যখন পঁচিশ বছর বয়স তখনই আমার পিতা আমার বিয়ে দেন আমাদেরই গ্রামের শুক্কর বেপারীর একমাত্র মেয়ে ষোড়সি আমেনার সাথে। আমি দেরীতে লেখাপড়া শুরু করি। যখন মাদরাসার ফাজিল শ্রেণীতে পড়ি তখন দেশে যুদ্ধ শুরু হয়। তখন আমার বয়স তিরিশের মত। আমার মাদাসার প্রিন্সিপাল কলিমুল্লাহ হুযূর আমাকে খুব স্নেহ করতেন। তিনি একদিন বললেন, দেশটা ইন্ডিয়া নিয়ে যাচ্ছে। এই পাক ওয়াতানকে রক্ষা করা প্রতিটি মুসলমানের দায়িত্ব। এখন জিহাদের সময়। বসে থাকলে চলবে না। দেশটা রক্ষা কর। চলে যাও রাজাকার বাহিনীতে। যুদ্ধে ঝাপিয়ে পড়। বাঁচলে গাজী, মরলে শহীদ মানে বেহেস্ত নসীব।
কলিমুল্লাহ হুযূরের একটা চিঠি নিয়ে আমি ঢাকার মিরপুরের উদ্দেশ্যে রওয়ানা দিলাম। আমার স্ত্রী আমেনাকে বলে এলাম আমি হুযূরের কাজে ঢাকা যাচ্ছি, ফিরতে কতদিন লাগবে জানি না।
যে ঠিকানায় এসে পৌঁছলাম সেটা একটা ছোট একতলা বাড়ী। চিঠি যার নামে দিয়েছে তার নাম মৌলানা ইকবাল আনসারী। দরজায় একটা লোকের সাথে দেখা হল। ইকবাল আনসারীর নাম বলতেই ভেতরে নিয়ে গেল। দেখলাম তিনি একজন জবরদস্ত আলিম। মাথায় পাক কিস্তি টুপি, মুখে কাঁচাপাকা চাপ দাড়ি। পরনে j¤^v শেরোয়ানি। হাতে পানের ডিবক্ষা। পানের রসে ঠোট লাল হয়ে আছে। সালাম দিয়ে চিঠিটা তার হাতে দিতেই তিনি খুলে পড়লেন। তারপর বললেন, মেরা দুস্ত তুমকো ভেজা, তুম বাঙাল হ্যায়, উর্দু জানতে হো?
মাদরাসায় আমি আরবীর চেয়ে উর্দুতে ভাল রেজাল্ট করতাম। ভাল বলতে পারি। বললাম, জি হুযূর, উর্দু জানতে হো।
জু বুলেগা সব কার সেকতা হু?
জি হুযূর, কাজ করতেই তো এসেছি। এই দেশকে শত্রম্নর হাত থেকে রক্ষা করতে হবে। তাই যুদ্ধে যোগ দিতে এসেছি। আমাকে সুযোগ দিন দেশের খিদমত করার জন্য।
তিনি খুশি হয়ে ডাক দিলেন, আশিক! ইদার আও। পাশের রুম থেকে আশিক নামক লোকটি এসে দাঁড়াল। তার মাথায় পাগড়ী, j¤^v দাড়ি, পরনে পাকিস্ত ানী শেরুয়ানি। ইকবাল হুযূর বললেন, ইয়ে আদমি কো মেরা দুস্ত ভেজা। উসকু সব কুচ শিখা লও। এক পিস্ত ল দে দও।
সেই থেকে আমার নতুন জীবনের যাত্রা শুরু।
বাকী অংশ জানতে- ক্লিক করুক